ড: নিধু লাল বণিক

Share
Twitter
LinkedIn
Email

ড: নিধু লাল বণিক, নামটা জার্মানি বা জার্মানির বাইরে অবস্থানরত হাজার হাজার সাস্টিয়ানের পরিচিত একটা নাম। এই ভদ্রলোকের সাথে আমার পরিচয় একটা অদ্ভুত ফোনকলের মাধ্যমে।
হুট করে জার্মানি আসবার কয়েকদিন পরেই একটা কল এলো আমার ফোনে। ফোন করে সুন্দর গলার এক ভদ্রলোক আমাকে বললেন, “পলাশ, আমি তোমার সাস্টের বড়ভাই নিধু দা বলছি”! জার্মানিতে অজস্র সাস্টিয়ান বড়ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেই যেচে গিয়ে পরিচিত হয়েছি। এই প্রথম কোনো একজন বড়ভাই আমাকে কল দিয়ে তার পরিচয় দিচ্ছেন। অসম্ভব না হলেও দুষ্কর এই ঘটনার টাল সামলানোর আগেই আমাকে উনি বললেন বার্লিনে সাস্টিয়ানদের একটা গেট টুগেদার আছে, সেখানে যেতে পারব কিনা? ক্যাম্পাসে ৬/৭ বছর সংগঠন করার সুবাদে কোনো ধরনের প্রোগ্রামে তখন দৌড়ে যাবার অভ্যাস আমার। যেহেতু খুব ভালো করে চিনিনা, তাই জনা দুয়েক বন্ধুকে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হতে চাইলাম — কে এই লোকটা? ওনার পরিচয় শুনে তো আমার মাথা চক্কর দেওয়ার মত অবস্থা!!
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র, জার্মানিতে পিএইচডি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্ট!!
বর্তমানে তিনি জার্মানির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিউক্লিয়ার ওয়েস্ট ডিসপোজাল ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অ্যাডভাইজার এবং একজন গবেষক হিসেবে কর্মরত, যেখানে তিনি পারমাণবিক গবেষণার মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করছেন।
এত বড় প্রোফাইলের একজন বড়ভাই, আমার মতো নিতান্ত নগণ্য, সদ্য জার্মানিতে আসা একটা ছেলেকে এত আদরের সাথে কল দিয়ে কথা বলেছেন — ভাবতেই তো কেমন লাগে!!!

ধীরে ধীরে ওনার সাথে পরিচয় বাড়ল। বার্লিন গেট টুগেদারে কথা হলো, স্টুটগার্ট রিইউনিয়নের সব কাজ অলমোস্ট একা হাতে সামলালেন। তার মতো প্রাণশক্তিসম্পন্ন মানুষ আমার জীবনে খুব একটা দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এর মধ্যে গাড়ি ড্রাইভ করে চলে এলেন একদিন হালেতে!! নিজের বন্ধুবান্ধবকেও যেখানে আমার এই গরিব শহরে আমি আনতে পারিনি, সেখানে এই মানুষটা নিজে থেকে এলেন, কথা বললেন, দিলেন চমৎকার, অসাধারণ সব গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ! আমার সাথে তো বটেই, আমার এখনকার বন্ধুদের সাথেও চমৎকার মিশে গেলেন।
এই মানুষটা স্রেফ একজন অসাধারণ মেধাবী ব্যক্তি আর ভয়াবহ চমৎকার সংগঠকই না — ইনি একজন এথলেট!!
যেবার হালে এলেন, ফান করে বললাম, “দাদা, আমি ভাবছি হাফ ম্যারাথন দৌড়াবো!”
আমাকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তারা জানেন এই কথাটা কত বড় মিথ্যা কথা! ঠিকঠাক প্রেশার না আসলে আমি কচ্ছপ গতিতে বাথরুমেও যাই না — সেই আমি নাকি দৌড়াব হাফ ম্যারাথন!!
দাদা ফাইজলামিটা বুঝেও আমাকে শুনালেন তার ম্যারাথন দৌড়ানোর গল্প!
জার্মানির চারটি প্রেস্টিজিয়াস ম্যারাথনে দৌড়েছেন এই মানুষ, সুযোগ পেলেই টেনিস খেলেন, ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন বিশ্বভ্রমণে!!
শুনে অবাক বিস্ময়ে খুলে যাওয়া চোয়াল আমার মাটিতে পড়বার দশা??
কিছু মানুষ আছেন, যারা মেঘ ছুঁয়েও চোখ রাখেন মাটির কাছে। নিধু দা তেমনই একজন মানুষ। জীবনের সমস্ত সাফল্য এই মানুষটার পায়ে লুটিয়ে পড়লেও তার বিনয় অসাধারণ!
যা ছুঁয়েছেন, তাতেই সোনা ফলিয়েছেন এই অনন্য মানুষটা! নিজেকে ওনার জুনিয়র ভাবতে ভীষণ ভালো লাগে!
ভালো থাকবেন নিধু দা — এই পাগলের ভালোবাসা নিবেন!

Translate »